ব্লগ কি? ব্লগের প্রাথমিক ধারণা । ব্লগিং করে আয়।

0

ব্লগ শব্দটির সঙ্গে সবাই কমবেশি পরিচিত। খুব কম মানুষ পাওয়া যাবে যারা জানেন না যে , ব্লগ কি? যারা গুগল থেকে ব্লগ সম্পর্কে প্রথম জেনেছেন তাদের বেশির ভাগ লোকই Google সার্চ বক্সে অনলাইনে আয় করার উপায় লিখে সার্চ করে ব্লগের সাথে পরিচিত হয়েছেন। অনেকের কাছে ব্লগ মানে অনলাইনে আয় করার একটা মাধ্যম। তবে , সত্যি কি তাই? না , সত্যি বলতে ব্লগার অর্থ অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। এই পোস্টটিতে

  • ব্লগ কি?
  • ব্লগ সম্পর্কে ধারণা
  • একটা ব্লগের গঠন
  • ব্লগ কত ধরনের
  • ব্লগিং শুরু করতে কি কি প্রয়োজন হবে
  • ব্লগিং কিভাবে শুরু করতে হবে।
  • ব্লগিং প্লাটফর্ম
  • ব্লগিং করে আয় করা যায় কি যায় না
  • ব্লগিং করে আয় করার উপায়?
  • সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।



    সর্বপ্রথম বাংলা ব্লগের সূচনা হয়েছিল ২০০৫ সালে । তবে বর্তমানে বাংলা ব্লগের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্লগারা এই বাংলা ব্লগের পরিধি বৃদ্ধি করতে যথেষ্ঠ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। ব্লগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে প্রথমে জানতে হবে ব্লগ কি?


    ব্লগ কি? , what is a blog?Picture Credit: pixabay.com

    ব্লগ কি?

    ব্লগ হলো web এবং log শব্দ দুটির সংমিশ্রণে তৈরি একটি শব্দ। ব্লগ একটি ওয়েব পেজ ছাড়া কিছুই না। যারা ব্লগিং করে তাদের বলা হয় ব্লগার । একটু গুছিয়ে বলতে গেলে , ব্লগাররা তাদের ব্লগে Creativity , Ideas এবং information শেয়ার করে। একটি ব্লগে ব্লগাররা যে কনটেন্ট লিখে তাকে ব্লগ পোস্ট বলে। এই পোস্টে সাধারণ ব্যক্তিগত মতামত , অভিজ্ঞতা , চিন্তা ভাবনা , খবর ইত্যাদি শেয়ার করা থাকে। একটা ব্লগ পোস্টকে সুন্দর করে তুলতে লেখালেখি সাথে ফটো , ভিডিও আপলোড করা থাকে যাতে একজন পাঠকের কাছে সেই পোস্ট থেকে পাওয়া ধারণা স্পষ্ট হয়। যারা ব্লগ নিয়মিত পড়ে বা ভিসিট করে তাদেরকে রিডার বা পাঠক বলা হয়।

    ব্লগকে একটা বইয়ের সাথে তুলনা করতে পারি। এক্ষেত্রে পুরোটা বইকে বলা হবে ব্লগ । বইটা যে লেখক লিখেছেন সেই লেখককে বলা হয় ব্লগার । লেখক বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠাকে বলা হবে ব্লগ পোস্ট। আর যারা বইটি পাঠ করবে তার হবেন পাঠক। এবারে নিশ্চয় ব্লগ কি পরিষ্কার হয়েছে।

    ব্লগের গঠন:

    ব্লগ সাধারণত গঠিত হয় ৬ টি অংশ নিয়ে । সেগুলো হলো: Header , Footer , Navigation bar , Body , Left sidebar , Right Sidebar . তবে অনেক ব্লগে দুই একটা অংশ বা section নাও থাকতে পারে। ব্লগের কয়টি অংশ নিয়ে তৈরি হবে সেটা নির্ভর করে ব্লগারের রুচির উপর। তবে ব্লগ সম্পর্কে জানতে হলে এগুলোর সম্পর্কে জানতে হবে

    Header: হেডার ব্লগের সবচেয়ে উপরের অংশ । এই অংশে ব্লগের লোগো থাকে। একটা লোগোকে ব্লগের প্রতিচ্ছবি বলা চলে। ব্লগের জন্য একটি লোগো খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক ব্লগের জন্য একটি লোগো আবশ্যিক।

    Footer : ফুটার ব্লগের নিচের অংশ। নিচের অংশে ব্লগের কপিরাইট নীতিমালা , About Me , Contact , Terms and conditions , Disclaimer ইত্যাদি থাকে।

    Navigation bar : নেভিগেশন বার হেডারের নিচে থাকে। ব্লগের জন্য নেভিগেশনবার জরুরী। Navigation Bar দেখে পাঠকরা ব্লগের কনন্টেট সম্পর্কে একটা ধারণা পায় আর তার চাহিদা অনুযায়ী কনন্টেট বেছে নেয়। এছাড়া ব্লগের এই অংশটা অপরিষ্কার ও অগোছালো হলে গুগল এডসেন্স অনুমোদন দেয় না।

    Left and Right Sidebar : সাইডবারগুলোতে সাধারণ সপ্তাহের সেরা পোস্টগুলো , ক্যাটাগরি , ট্যাগ , সোসিয়াল নেটওয়ার্কের লিংক , সাবস্ক্রিপশনের লিংক ব্যাবহার করা হয়। তবে অনেক ব্লগে সাইড বার নাও থাকতে পারে।

    Body : উপরে উল্লেখিত সকল Section এর চাইতে গুরুত্বপূর্ণ সেকশন হলো body section . এখানে ব্লগের সব পোস্ট লিপিবদ্ধ করা থাকে। ব্লগের সকল আপডেট পোস্ট এখান থেকেই পাঠকরা পড়তে পারে। এই বডি সেকশনে ব্লগের প্রান , কনন্টেট থাকে। Home page এ সাধারণ কনন্টেট সাজানো থাকে।

    উপরের section গুলো ছাড়াও অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সেকশন একটি ব্লগে থাকতে পারে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেকশন গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি সেকশন হলো Comment section। কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে পাঠকর তাদের মতামত ব্লগারের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

    ব্লগ কি? জানার জন্য ব্লগের গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পরে জানতে হবে ব্লগ কত ধরনের হয়? ব্লগের জনপ্রিয়তা যতই বাড়ছে ততই  ব্লগের ধরনের সংযোজন হচ্ছে। ব্লগ অনেক ধরনের হয় যেমনঃ প্রযুক্তি ব্লগ , ব্যক্তিগত ব্লগ , সোসিয়াল ব্লগ , নিউজ ও ইভেন্টস ব্লগ , ফটো ও ভিডিও ব্লগ , ট্রাভেল ব্লগ , টিপস এন্ড ট্রিক্স ব্লগ ইত্যাদি

    প্রযুক্তি ব্লগ : এই ধরনের ব্লগে প্রযুক্তি সম্পর্কে পোস্ট করা হয়। ব্লগের মধ্যে বর্তমানে প্রযুক্তি বিষয়ক ব্লগের সংখ্যা অনেক বেশি । প্রযুক্তি ব্লগের কনন্টেটের মদ্ধ্যে আছে কম্পিউটার , ইলেকট্রনিক ডিভাইস ইত্যাদি।

    ব্যক্তিগত ব্লগ : ব্যক্তিগত ব্লগে ব্লগার তার নিজের ইচ্ছেমত কনন্টেট নিয়ে কাজ করে। ব্যক্তিগত ব্লগের কনন্টেটের মধ্যে রয়েছে নিজস্ব মতামত শেয়ার , নিজের সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো , অন্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়া , অভিজ্ঞতা শেয়ার প্রভৃতি।

    সোসিয়াল ব্লগ : সোসিয়াল ব্লগ বলতে সামাজিক ব্লগ বলা হয়। এই ধরনের ব্লগে সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    নিউজ ও ইভেন্টস ব্লগ : নিউজ ও ইভেন্টস ব্লগে প্রতিদিন খবর প্রকাশ করা হয়। এই ধরনের ব্লগগুলো নিয়মিত আপডেট রাখা হয়। ইভেন্টসের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্লগকে গড়ে তোলা হয়।

    ফটো ও ভিডিও ব্লগ : ব্লগের ক্যাটাগরিতে সর্বশেষ সংযোজনের মধ্যে অন্যতম হলো ফটো ও ভিডিও ব্লগ । এই ধরনের ব্লগের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ভিডিওর জন্য ইউটিউব থাকায় ব্লগের ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্লগারের সংখ্যা কম । তবে আপনার কাছে ভালো মানের DSLR camera থাকলে ফটো ব্লগিং শুরু করতে পারেন।



    blog postPicture Credit: pixabay.com

    Travel blog : ভ্রমণ প্রিয় মানুষের কাছে অতি পরিচিত একটি ব্লগ হলো ট্রাভেল ব্লগ। ট্রাভেল ব্লগে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা , ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা হয় । ট্রাভেল ব্লগ জনপ্রিয় ব্লগগুলোর মধ্যে অন্যতম।

    টিপস-এন্ড-ট্রিকস ব্লগ : নিত্য জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আর এই সমস্যার সমাধান দেওয়ার তাগিদে প্রথম ট্রিপস এন্ড ট্রিকস ব্লগের সূচনা হয়। এই ধরনের ব্লগে নিত্য জীবনের সমস্যা সমাধানের জন্য সহজ ও সাবলীল উপায় নিয়ে পোস্ট করা হয়।


    ব্লগিং শুরু করতে কি কি প্রয়োজন হবে?

    ব্যবসা শুরু করতে যেমন মূলধন দরকার তেমনি ব্লগিং শুরু করতে চাইলে কিছু জিনিস প্রয়োজন পড়বে। যেমন: একটা আইসিটি ডিভাইস , একটি ডোমেইন ও হোস্টিং , থিম বা টেমপ্লেট এবং কনন্টেট।

    আইসিটি ডিভাইস: ব্লগিং শুরু করতে সর্বপ্রথম যে জিনিসটা দরকার সেটা হলো একটা আইসিটি ডিভাইস অর্থাৎ একটা কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ তবে স্মার্টফোন হলেও কাজ চালিয়ে নেওয়া যাবে। ব্লগের দেখাশোনা , কাষ্টমাইজেশন , পোস্ট করা সহ সকল কাজ করতে এই ইলেকট্রিক বা আইসিটি ডিভাইজের প্রয়োজন পড়বে।

    ডোমেইন ও হোস্টিং : ইলেকট্রনিক্স ডিভাইজের পরে প্রয়োজন হবে ডোমেইন ও হোস্টিংয়ের । ডোমেইন বলতে বোঝায় ব্লগের নামকে। হোস্টিং হলো একটি স্পেস যেখানে ব্লগের কনন্টেটগুলো থাকবে। বর্তমানে অনেক ভালো ভালো ডোমেইন ও হোস্টিং প্রোভাইডার আছে। যেমন: GoDaddy, Namecheap ইত্যাদি ‌‌। বেশিরভাগ ভালো মানের ডোমেইন ও হোস্টিং প্রোভাইডার কোম্পানি বিদেশি হওয়ায় ডোমেইন ও হোস্টিং কেনার জন্য ক্রেডিট অথবা ডেবিট কার্ডের প্রয়োজন হয়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশেও কিছু কোম্পানি চালু হয়েছে যেগুলোর পেমেন্ট মেথড হিসেবে বিকাশ বা নগদ যোগ করেছে। আপনি চাইলে ডোমেইন ও হোস্টিং একই কোম্পানি থেকে নিতে পারেন আবার ভিন্ন কোম্পানি থেকেও নিতে পারেন।

    Theme or Template : ব্লগের ডোমেইন ও হোস্টিং নেওয়া শেষ হলে প্রয়োজন এটাকে সুন্দর ভাবে সাজানো বা ডিজাইন করা। এর জন্য আপনাকে একজন প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনারের সাথে যোগাযোগ করে তার থেকে ডিজাইন করিয়ে নিতে পারেন অথবা টেমপ্লেট কিনে নিতে পারেন। এই টেমপ্লেট বা থিমই আপনার ব্লগের আউট লুক দেবে। ব্লগের ডিজাইন যথ ভালো পাঠকরা ততটাই আকৃষ্ট হবে।

    কনন্টেট : ব্লগ তৈরি করার জন্য আপনার কাছে অবশ্যই কনন্টেট থাকার দরকার। আপনার কাছে কনটেন্ট না থাকলে আপনি ব্লগে কি পোস্ট করবেন আর পাঠকই বা কি পড়তে আপনার ব্লগে আসবে। তাই ব্লগ তৈরি করার সময় আপনি কি কনটেন্ট নিয়ে কাজ করবেন সেটা ঠিক করে নিবেন। কনন্টেট হলো আপনি যে বিষয়ে লেখালেখি করবেন সেটা। যেমন:  প্রযুক্তি বিষয়ে লেখালেখি করলে প্রযুক্তি হলো কনটেন্ট।



    কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো?

    যারা নতুন ব্লগ সম্পর্কে জানে তাদের সবার প্রশ্ন থাকে কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো? ব্লগিং শুরু করতে উপরের উল্লেখিত প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর পর দরকার প্রচুর পরিমাণে তথ্য থাকা , যে বিষয়টি নিয়ে ব্লগিং শুরু করতে যাচ্ছেন সেটা সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণে জ্ঞান রাখা। যাতে ব্লগিং শুরু করে কনন্টেটের অভাবে ব্লগিং ছেড়ে না দিতে হয় । অনলাইনে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে বেশীরভাগ নতুন ব্লগাররা কনন্টেটের অভাবে ব্লগিং বন্ধ করে দেয়।

    এরপরে প্রয়োজন ভালো মানের ইন্টারনেট কানেকশন বা ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের নয়তো বাংলাদেশের বর্তমানে নেটওয়ার্কের যে সমস্যা তাতে দুইদিনেই ব্লগিংয়ের নেশা শেষ হয়ে যাবে। তাই ব্লগিং করার আগে ব্লগিং সম্পর্কে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখে আরো বিস্তারিত জেনে নিবেন।



    ব্লগিং প্লাটফর্ম :

    বই লেখার জন্য যেমন অনেকগুলো পেজ বা প্লাফর্মেল প্রয়োজন তেমনি ব্লগিং শুরু করার জন্যেও একটা প্লাটফর্ম দরকার। ইন্টারনেট জগতে অনেক ব্লগিং প্লাটফর্ম আছে । তবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্লগিং প্লাটফর্ম হলো BloggerWordPress। দুইটা প্লাটফর্মই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

    Blogger.com : হলো গুগল পরিচালিত একটি ব্লগিং প্লাটফর্ম । নতুনদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিনামূল্যে ব্যবহারযৌগ্য মাধ্যম। এখানে বিনামূল্যে শুধুমাত্র একটি ইমেইল ঠিকানার মাধ্যমে যেকেউ একটি ব্লগ সাইট ও ডোমেইন নেম পেয়ে যাবে। এইখান থেকে ব্লগ তৈরি করলে প্রতিটা ব্লগের নামের সাথে .blogspot.com থাকে। তবে চাইলে Custom Domain যোগ করতে পারবেন।


    Blogger.com

    WordPress : ব্লগিংয়ের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক মাধ্যম হলো WordPress । তবে এখানে Blogger -এর মত ফ্রিতে কোন সাব-ডোমেইন পাবেন না। এর জন্য আপনাকে ডোমেইন ও হোস্টিং কিনতে হবে। WordPress হলো একটি CMS । ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগ তৈরি করতে যেহেতু টাকার প্রয়োজন তাই Beginner রা Blogger.com ব্যাবহার করতে পারেন।


    WordPress.orhPicture Credit: pixabay.com


    ব্লগ থেকে আয় করা যায় কি যায় না?

    আমেরিকা , ভারত , চীন ইত্যাদি দেশের ব্লগাররা ব্লগিংকে ফুলটাইম জব হিসেবে গ্রহণ করছে এবং বিশাল পরিমাণ অর্থ আয় করছেন। তাহলে বুঝতে পারছেন ব্লগিং করে টাকা আয় করা সম্ভব। বাংলাদেশের ব্লগাররাও ভালো একটা অর্থ আয় করছেন তবে খুব কম ব্লগার এটাকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছে। কিন্তু , যখন প্রশ্ন টাকা আয় করা যায় কিনা সেটার উত্তর, হ্যাঁ অবশ্যই টাকা আয় করা যায়।



    ব্লগিং করে আয় করার উপায়?

    আপনারা তো ইতোমধ্যে জেনে গিয়েছেন ব্লগিং করে টাকা উপার্জন করা সম্ভব। তাহলে এবারের প্রশ্ন কিভাবে ব্লগ থেকে আয় করতে হয়? মূলত অনেক ভাবে একটি ব্লগ সাইট থেকে ইনকাম করা যায়। ব্লগ থেকে আয় করর জনপ্রিয় ৩ টি মাধ্যম সম্পর্কে আলোচনা করব। আয় করার তিনটি উপায় হলো- গুগল এডসেন্স , মার্কেটিং ও affiliate marketing এবং নিজস্ব পণ্য বিক্রি করে।


    Google Adsense :
    ব্লগ থেকে আয় করার সবচেয়ে সহজ এবং জনপ্রিয় মাধ্যম হলো গুগল এডসেন্স। ভালো মানের ৪০-৫০ টা ইউনিক আর্টিকেল থাকলে এবং আপনার ব্লগ গুগলের সকল নিয়ম নীতি মেনে চললে গুগল এডসেন্স থেকে আপনার ব্লগ এডস দেখানোর জন্য অনুমোদন পাবে। ব্লগে যত বেশি ভিজিটর আসবে আপনার ইনকাম তত বেশি হবে। গুগল এডসেন্স তাদের এডসে ক্লিকের হিসেবে একটা অর্থ পেমেন্ট করে। ব্লগে এডসেন্সের এড দেখানো প্রত্যেকটা ব্লগারের একটা স্বপ্ন বলতে পারেন। ভিজিটর থাকলে গুগল এডসেন্স থেকে মাসিক $200 - $1000 টাকা আয় করা সম্ভব।


    Google Adsense

    Marketing and Affiliate marketing :
    গুগল এডসেন্সের পরে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রচলিত ব্লগ থেকে আয় করর মাধ্যম হচ্ছে মার্কেটিং ও এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং । বর্তমানে অনেক মার্কেটিং ও এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সাইট তৈরি হয়েছে যেমন: Amazon , Filpcart , Alibaba ইত্যাদি। আগে চলুন মার্কেটিং কী সেটা জেনে নিই। একটা উদাহরণের সাহায্য মার্কেটিং বোঝানো যাক , মনে করেন আপনি অ্যামাজন থেকে একটি পণ্যের মার্কেটিং লিংক কপি করে আপনার ব্লগে দিলেন আর সেই লিংকে ক্লিক করে কেউ ঐ পণ্যটি কিনল তবে আপনি Amazon থেকে একটা টাকা পাবেন আর এই প্রক্রিয়া হলো মার্কেটিং। অ্যফিলিয়েট মার্কেটিং বা প্রোগ্রাম বিষয়টা কিছুটা মার্কেটিংয়ের মতোই। এক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার সাইটে কোন মার্কেটপ্লেস থেকে রেফারেল লিংক আপনার ব্লগে দিয়ে কাউকে ঐ মার্কেটপ্লেসে কাজ করানো জন্য রেফারেন্স করতে পারেন তবে ঐ মার্কেটপ্লেস আপনাকে কিছু অর্থ পে করবে।



    নিজস্ব পণ্য বিক্রি: আপনার ব্লগে যদি প্রতিদিন অনেক অনেক ভিজিটর আসে তাহলে আপনি চাইলেই আপনার ব্লগের ধরনের উপর ভিত্তি করে পণ্য বা দ্রব্য বিক্রি করে ভালো পরিমাণে টাকা আয় করতে পারবেন। মনে করেন, আপনার ব্লগটি প্রযুক্তি বিষয়ক ব্লগ । অর্থাৎ আপনার ব্লগে প্রযুক্তি প্রেমিকরা নিয়মিত ভিজিট করে । আর এই ব্লগে আপনি যদি খাবার বিক্রি করেন তবে কেউ আগ্রহী হয়ে কিনবেন না কিন্তু আপনি যদি প্রযুক্তি সঙ্গে রিলেটেড পণ্য যেমন: মোবাইল, কম্পিউটার , ঘড়ি ইত্যাদি বিক্রি করেন তবে ভিজিটররা আগ্রহ দেখিয়ে কিনবেন। আর এর সাথে আপনার ব্লগ থেকে আয়ও হতে থাকবে। কিন্তু, এইভাবে আয়ের বিষয়টি Google Adsense এবং Marketing and Affiliate marketing এর মতো ততটা জনপ্রিয় নয়।


    ব্লগ কি এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখতে পারেন।





    আজকে এই আর্টিকেল পড়ে জানতে পারলেন ব্লগ মানে কী,ব্লগার কী , ব্লগার থেকে টাকা আয় করা যায়, না যায় না । আর্টিকেলটি পড়ে নতুন কিছু জানতে পারলেন কিনা সেটা কমেন্ট করে জানাবেন।

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    0মন্তব্যসমূহ
    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

    #buttons=(Accept !) #days=(20)

    Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
    Accept !