ওয়েবসাইট কি? ওয়েব পেজ কি ? ওয়েবসাইটের সুবিধা অসুবিধা

0

ওয়েব পেজ কি ? ওয়েবসাইট কি ? এটা আমাদের সবারই জানা দরকার । আসলে এখন দৈনিক অনেক উচ্চহারে ওয়েবসাইট তৈরি করা হচ্ছে।  আর এখন সবকিছুই ওয়েবসাইট নির্ভর হয়ে পড়েছে। ট্রেনের টিকিট থেকে বাসের টিকিট পাসপোর্ট , জামা কাপড় কেনা থেকে পুরনো জিনিসপত্র বেচাকেনা,  খাবার অর্ডার , গাড়ি ভাড়া করা , পরীক্ষার ফলাফল জানা এমনকি সকল সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ওয়েবসাইট নির্ভর করে ফেলা হয়েছে । এখন আমাদের সবার জানা উচিত ওয়েবসাইট কি? ওয়েব পেজ কি? এগুলো যদি না জানি তাহলে আমরা এই সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবো।

Table of contents

toc

কিভাবে বঞ্চিত হব তা আপনাদেরকে একটু ধরণা দিই। মনে করেন এখন ভোটার আইডি কার্ড নিতে চাইলে বা জাতীয় পরিচয় পত্র নিতে চাইলে আপনাকে আর ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ কিংবা উপজেলা পরিষদে ঘুরে বেড়ানোর দরকার নাই । আপনি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করে বাড়িতে বসে আপনার নিজের কম্পিউটার দিয়ে আবেদন করতে পারছেন। সেবা কত সহজলভ্য হয়ে গেছে দেখছেন। এই ওয়েবসাইট আপনার কতখানি ভোগান্তি কমিয়ে দিতে পেরেছে।

ওয়েবসাইট কি? ওয়েব পেজ কি ?  ওয়েবসাইটের সুবিধা অসুবিধা


আবার মনে করেন, আপনার জমির কাগজপত্র বা দলিল দরকার। আপনি কি করবেন । আপনাকে ভূমি অফিসে যেতে হবে তারপরে সেখানে গিয়ে পুরোনো নথিপত্র  ঘাটতে হবে। নথিপত্র ঘেঁটে সেখান থেকে আপনার কাগজ বের করার পর বিভিন্ন ঝামেলার করে আর দশ দিন ঘুরে ফিরে সেই কাগজপত্র তুলতে হবে। তারপরে সেগুলো আবার ফটোকপি করে বাইরে নিয়ে আসতে হবে। কত্ত ঝামেলা তাই না? কিন্তু আপনি চাইলে ই-পর্চা তে গিয়ে নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে সেই কাগজপত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই ফটোকপি করে নির্দিষ্ট কর পরিশোধ করে বের করে নিতে পারবেন।

আবার মনে করেন , আপনার পুরনো জিনিস বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন। ভালো লোক পাচ্ছেন না। তবে আপনার জিনিসটা বেঁচা লাগবে তখন কি করবেন আপনি ? আপনি নিশ্চয়ই মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলবেন না যে আমারে পুরনো জিনিসটি কিনে নিন!  আপনি কি করতে পারেন, কোন ওয়েবসাইটে গিয়ে   যে জিনিসটা বিক্রি করবেন সেই পুরনো জিনিসটার বিজ্ঞাপন দিবেন তারপর ওই পুরনো জিনিসটা যার কেনার প্রয়োজন সে টাকার বিনিময়ে আপনার থেকে ক্রয় করে নিবে। কাজটা অনেক সহজ হয়ে গেল না?

একটা সময় ছিল,  যখন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হতো তার দুইদিন, তিনদিন এমনকি এক সপ্তাহ পর পর্যন্ত ফলাফল পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতি  ওয়েবসাইট নির্ভর করার পরে রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে আপনার ফলাফল মার্কশিট সহ পেয়ে যাচ্ছেন। কত সুবিধা! 

আবার আপনার অনেক ক্ষুদা লেগেছে রান্না করার মতো ধৈর্য নেই। তখন কি করবেন ? আপনি এত দ্রুত রান্না করা খাবার কোথায়  পাবেন?  বর্তমানে বিভিন্ন ওয়েবসাইট অনলাইনে খাদ্য খাবার অর্ডার পাওয়ার পর তাঁরা বাড়িতে এসে খাবার  ডেলিভারি করছে। আর যখন ওয়েবসাইটের এমন অস্তিত্ব ছিলনা তখন হয় আপনাকে পাশের বাড়ি থেকে খাবার চেয়ে নিয়ে এসে খেতে হতো আর নয়তো  ক্ষুধা সহ্য করে রান্নাবাড়া করে তারপর খেতে হতো। এখন তো সব ডিজিটাল মানুষেরা  রান্না করে বাড়িতে  খেতে চান না । সবাই ফাস্টফুড খাওয়াতে মগ্ন থাকেন। 

তো যাই হোক , এইভাবে ওয়েবসাইটের উপকারিতার কথা লিখতে লিখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় শেষ হয়ে যাবে তাও ওয়েবসাইটের উপকারি দিকগুলো লিখে শেষ করা যাবে না। তাই ওয়েবসাইটের উপকারী দিকগুলো নিয়ে আর বেশি কিছু লিখব না । আসলে আপনারা সবাই একটি ধারণা পেয়ে গেছেন যে ওয়েবসাইট দিয়ে কি কি করা সম্ভব। এখন কিছু অপকারী দিক তুলে ধরবো।

একটি জিনিসের শুধু উপকারী দেখাব কিন্তু অপকারী দিক থাকবে না এটা সম্ভব না। সকল জিনিসের একটি উপকারী ও  অপকারী দিক থাকেই। ওয়েবসাইটেরও আছে। ওয়েবসাইটের অপকারী দিকগুলো হলো:

ওয়েবসাইট ব্যবহারের দক্ষতা হবে। দক্ষ না হতে পারলে আপনি অনলাইনের যেকোনো জায়গাতেই ঠকে যাবেন। মনে করেন, আপনি অনলাইনে অর্ডার করেছেন আইফোন কিন্তু আপনার কাছে চলে আসবে পেঁয়াজ  । অর্ডার করবেন জামা আসবে হেডফোন। সত্যি বলতে কি, ওয়েবসাইট ব্যবহারের মাধ্যমে নিয়মিত ওয়েবসাইট ব্রাউজিং করে  অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। অভিজ্ঞতা তৈরি হলে যাদের থেকে পণ্য অর্ডার করবেন তাদের সম্পর্কে রিভিউগুলো দেখে সত্যতা যাচাই করার মাধ্যমে আপনি বের করে ফেলতে পারবেন কোনটা আসলে কেনাকাটা করার জন্য বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট  আর কোনগুলো বিশ্বস্ত নয়।

অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো খুঁজে পেতে দক্ষ হতে হবে । যদি খুঁজে পেতে দক্ষ না হন তাহলে আপনার প্রয়োজনীয় কোনো কিছুই খুঁজে পেতে পারবেন না। আপনার প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে তাহলে ওই কম্পিউটারের দোকান কিংবা একজন এক্সপার্টের সাথে দেখা করতে হবে তারপর যদি আপনার কাজ টাকা দিয়ে করতে পারেন তবে হবে আর হলে আবার সেই প্রাচীন কালের হয়রানি।

ভালো নেটওয়ার্কের গতি থাকতে হবে। নেটওয়ার্কের ভালো গতি না থাকলে অনেক ভালো ভালো শিক্ষনীয় ওয়েবসাইট আছে যেগুলো আপনার ফোনে ব্রাউজারে অল্প সময়ে লোডিং -ই হবে না। লোডিং হতে যদি সময় চলে যায় তাহলে শেখার সময় কোথায়? বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যা বাজে , আর যেরকম নেটওয়ার্ক কানেকশন থাকে তাতে ওয়েবসাইট ব্যবহারের সুবিধার থেকে আমাদের কাছে অসুবিধাগুলোই  চোখে বেশি পরে। 

যেমন: বর্তমান সময়ে যে রেলের টিকিট অনলাইনে কাটা হচ্ছে বা  ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কাটা হচ্ছে এই কারণে যে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাতে আমাদের অনেকের কাছে ওয়েবসাইট মানে খারাপ,  ওয়েবসাইট মানে চিটিং এগুলোই মাথায় আসে। আসলে সত্যি বলতে কি আসলে সব ওয়েবসাইট চিটিংবাজ না । আপনি যদি ব্যবহার করতে পারেন তাহলে ওয়েবসাইটের ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ আপনার জন্য উপকারী। আপনার ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয়  তথ্য পাওয়ার জন্য যথেষ্ট । আমাদের শুধু ভালোভাবে ব্যবহার করতে হবে।

এতক্ষণ শুধু ওয়েব সাইটের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে বকবক করলাম। আসলে এই যে ওয়েবসাইট ওয়েবসাইট বলছি আসলে এই ওয়েবসাইট কি? আর এই ওয়েব পেজ কি? আমি এখনো তা বলিনি। শুধুমাত্র ওয়েবসাইট কি? ওয়েবপেজ কি? তা অনুধাবন করিয়েছি। এইবারে ওয়েবপেজ কি?  প্রথমে জেনে নেওয়া দরকার তাহলে ওয়েবসাইট কি? আপনাদের বুঝতে সুবিধা হবে।

আপনি কি জানেন , ব্লগ কি ? ব্লগার কারা ? জানতে চাইলে পড়ে আসতে পারেন ব্লগ কি? ব্লগার কারা ? আর্টিকেলটি

ওয়েব পেজ কি?

ওয়েব পেজ হলো তথ্যবহুল লেখা, ছবি , ভিডিও ও গ্রাফিক্স ইত্যাদি দিয়ে নির্মিত এইচটিএমএল ডকুমেন্ট । ওয়েব পেজ বুঝতে, ওয়েব পেজকে একটি খাতার বা বইয়ের পৃষ্ঠার সঙ্গে তুলনা করতে পারি। যদি ওয়েবপেজের ক্ষেত্রে এই খাতার বা বইয়ের পৃষ্ঠাটিকে একটু উন্নত হতে হবে । সাধারণত একটি খাতাতে বা বইতে শুধু লেখা আর তার সাথে কিছু ছবি থাকতে পারে কিন্তু এক্ষেত্রে এর সাথে কিছু শব্দ , কিছু অ্যানিমেশন কিংবা কিছু ভিডিও যোগ করার সক্ষমতা থাকতে হবে।

একটি ওয়েব পেজে কখনোই একাধিক ব্যক্তি একই সাথে তার লেখা ছবি ভিডিও কিংবা গ্রাফিক্স কোনটাই প্রকাশ করতে পারে না। একটি ওয়েব পেজে মাত্র একজন ব্যক্তি তার সমস্ত লেখা একবার প্রকাশ করতে পারে আর বারবার আপডেট করতে পারে। এই হচ্ছে অল্প কথায় বলতে গেলে ওয়েবপেজ। আশাকরি ওয়েব পেজ কি ? ধারণাটা আপনার পরিষ্কার হয়েছে। আরেকটু পরিষ্কার করে লিখি , 

মনে করেন আপনি ভোটার হবেন,  তার জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের ঠিকানা আপনার ফোনের ব্রাউজারের এড্রেসবারে লিখার পর সর্বপ্রথম যেটা লোডিং হচ্ছে সেটাই হচ্ছে ওয়েবপেজ । এটাকে হোমপেজ বলা হয়। 

ওয়েব সাইট কি?

এবারে চলুন ওয়েবসাইট কি তা জেনে নিই। ওয়েবসাইট হলো কতগুলো ওয়েব পেজের সমন্বয়ে গঠিত তথ্যবহুল ডকুমেন্টের ভান্ডার। যেখানে একাধিক ওয়েবপেজের বিভিন্ন তথ্য সুন্দরভাবে গুচ্ছিত করে সাজিয়ে রাখা হয়। যেমন : ওয়েব পেজ বোঝাতে যে খাতার বা বইয়ের পৃষ্ঠার উদাহরণ  নিয়েছিলাম তা দিয়ে আপনার ওয়েব সাইটের ধারণাটাও পরিষ্কার করি। যেমন অনেকগুলো পৃষ্ঠার সমন্বয়ে একটি বই অথবা খাতা তৈরি হয় ঠিক তেমনি একাধিক ওয়েবপেজের সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট তৈরি হয়।

বস্তুত, ওয়েবসাইট বলতে একাধিক ওয়েবপেজের সমষ্টিকেই বোঝায়। একটি লাইব্রেরী যেমন বইয়ের শাড়ি ছাড়া কোন অর্থই বহন করেনা তেমনি একটি ওয়েবসাইট তথ্যবহুল ওয়েবপেজ ছাড়া কোন অর্থ বহন করে না। যদি অসংখ্য তথ্যবহুল ওয়েবপেজ না থাকে তবে সেই ইউনিক পেজটিকে ওয়েবসাইট বলা যাবে তবে একে বলা হয় স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট। যে ওয়েবসাইটে কোন তথ্য হালনাগাদ নিয়মিতভাবে করা হয় না তাকে স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট বলে। বিশেষ করে স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট গুলো হচ্ছে ব্যক্তিগত বা কোম্পানির ওয়েবসাইট । যেগুলোতে শুধুমাত্র সে ব্যক্তির বা কোম্পানির কিছু তথ্য যা পরিবর্তন হয় না সেগুলো ব্যবহার করা হয়। 

আর একটি আদর্শ ওয়েবসাইট বলতে ডায়নামিক ওয়েবসাইটগুলো কে বোঝায়। যে সকল ওয়েবসাইট একাধিক পৃষ্ঠার সমন্বয়ে গঠিত ও নিয়মিতভাবে আপডেট করা হয় সেগুলোকে ডায়নামিক ওয়েবসাইট বলে। ডায়নামিক ওয়েব সাইটে আপনি সকালবেলায় যে কনটেন্ট দেখছেন বিকেল বেলায় সেই কনটেন্টকে খুঁজে পেতে দেরি হতে পারে। টেক রাহিম একটি ডায়নামিক ওয়েবসাইট।

বর্তমানের অধিকাংশ ওয়েবসাইটগুলো হচ্ছে ডাইনামিক ওয়েবসাইট। তাই এ সময়ে স্ট্যাটিক বা অপরিবর্তনশীল ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে example.com হলো একটি স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটের উদাহরণ। ইংরেজি অভিধানের মতে ওয়েবসাইট হলো একটি বিশেষ্য। আর ওয়েবসাইট এর অর্থ:

 a set of related web pages located under a single domain name, typically produced by a single person or organisation.

ওয়েবসাইট কি?


অর্থাৎ ইংরেজি অভিধানের মতো করে বলতে গেলে, ওয়েবসাইট হচ্ছে একটিমাত্র ডোমেইন নামের নেমের আওতাধীন একই ধরনের ওয়েব পেজের সমষ্টি বা সেট। যেটা ব্যক্তিগত একজন অথবা অরগানাইজেশন এর মাধ্যমে লেখালেখি করা হয়।
তো এই ছিল , আজকের আর্টিকেল। আজকের এই আর্টিকেলে আমি মূলত আলোচনা করেছি ওয়েব পেজ কি? ওয়েবসাইট কি? ওয়েব সাইট এর সুবিধা অসুবিধা নিয়ে। আমি হয়তো ওয়েব পেজ কি ? ওয়েবসাইট কি? ওয়েব সাইটের সুবিধা অসুবিধা  পুরোপুরি বোঝাতে সমর্থ হয়নি তবে আশা করছি, এই ব্লগ পোস্টটি পড়ার পরে আপনার ওয়েবসাইট কি? ওয়েব পেজ কি? ওয়েবসাইট এর সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে কোন ধারণা অস্পষ্ট থাকার কথা না । যদিও অস্পষ্ট থাকে তাহলে এই পোষ্টের নিচে কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে আপনার মন্তব্যটি করতে পারেন । আমি আপনার সকল মন্তব্যের জবাব দেওয়ার মাধ্যমে আপনার অস্পষ্ট ধারণাটি পরিষ্কার করে দিবো ইনশা-আল্লাহ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !